ধ্যান ও আত্ন্যাধিক শক্তি

মন্ত গুরু জ্বিন সাধন
১/ আত্ম দর্শনের নামই হল ধ্যান। নিজেকে জানা, সঠিক ভাবে নিজেকে চেনা, নিজের ভিতরের শক্তিকে বোঝার যে প্রয়াস তারই নাম ধ্যান। নিজের ভেতরে জগতের মহৎ শক্তিকে প্রতক্ষ্য করা ই হল ধ্যানের উদ্দেশ্য। তাকে আমারা দেখেছি; তাকে আমরা পেয়েছি, অথচ অনভ্যাসের ফলে ভুলে বসে আছে। সাধন ভজন হল তাকে মনে করার পদ্ধতি।
আমি কি তাকে দেখেছি যে তার ধ্যান করবো? আমি পাহাড় দেখেছি তাই আমি পাহাড়ের ধ্যান করতে পারি আমি আকাশ দেখেছি তাই মহাশুন্যের ধ্যান করতে পারি কিন্তু সেই পরমেশ্বরকে কি আমি দেখেছি যে তার ধ্যান করতে পারবো! আমদের মধ্যে তিনি আছেন। তাকে চিত্তপটে জাগিয়ে তোলার নামই ধ্যান। তিনি নিত্য বর্তমান আমাদের ভেতরে তাই ধ্যানের মাধ্যমে তাকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব, যদি তিনি না থাকতেন তাহলে হাজার ধ্যান করেও তাকে পাওয়া সম্ভব হত না। মহাপুরুষ রা প্রত্যেকেই তার অভ্যন্তরে সেই মহান শক্তিকে অনুভব করেছেন। যোগাযোগ করেছেন সেই মহান শক্তির সাথে। ধ্যানের ফলে আত্মস্মৃতি জাগরিত হয়, আর তার ফলে স্বরুপ দর্শন ঘটে। আমারা জাগতিক ভোগবাদে নিমজ্জিত হয়ে আত্ম বিস্মৃতির অতল তলে ডুবে আছি একমাত্র ধ্যানের ফলেই সেই গভীর অন্ধকার থেকে নিজেকে তুলে আনা সম্ভব।
সংস্কৃত ‘ধ্যৈ’ ধাতু থেকে ধ্যান শব্দটি নিষ্পন্ন। ‘ধ্যৈ’ ধাতুর অর্থ হল ‘চিন্তা করা’। সোজা ভাবে, একাগ্র চিন্তা করার নামই হল ধ্যান। মনের অনন্য একগ্রতার নাম ধ্যান। এই একগ্রতা বা অভিনিবেশ বা তন্ময়তা- সাধারন বস্তু, বিষয় বা ব্যাক্তিকে আশ্রয় করে আরম্ভ হয়ে পরিশেষে ঈস্বরীয় তত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। যদিও ধ্যান বলতে প্রধানত ঈশ্বরীয় ধ্যাঙ্কে বোঝায় তবুও ধ্যানের জাগতিক ব্যবহার এবং উপযোগিতা আমাদের কাছে উপেক্ষার নয়। কারন জড়জগতে আমাদের নানাবিধ সমৃদ্ধি ও অভ্যুদয় লাভে সবিশেষ সহায়তা করে।
ধ্যান করার জন্য তিনটি জিনিসের প্রয়োজন হয়। যিনি ধ্যান করেন – ধ্যাতা; যাঁর ধ্যান করা হয় – ধ্যেয়, যে ক্রিয়াটি করা হয় – ধ্যান। ‘ধ্যেয়’র দুটি ভাগ আছে বাস্তবিক ও অলৌকিক। আমি কোন নাম নিয়ে ধ্যান শুরু করলাম তা বাস্তবিক, অর্থাৎ আমি যা জানি, চিনি বা বুঝি কিন্তু ক্রমশ ধ্যান করতে করতে তার একটা বিশেষ রূপ আমার সামনে খুলে গেলো, যা আমি চিনিনা, জানিনা বা বুঝিনা এটাই অলৌকিক। ধ্যানের আসল লক্ষ্য হল এই অলৌকিক অবস্থাকে প্রাপ্ত করা। যেখানে ধ্যানের তিনটি উপাদান মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। আর তখন ঘটে সমাধি, ধ্যানের চরম অবস্থা।
মৃন্ময় মানে মাটি ময় বা মরনশীল, আর চিন্ময় মানে চির বহমান বা চিরন্তন। আমরা মৃন্ময় আর তিনি চিন্ময়। ধ্যানের শুরু করতে হলে মৃন্ময় কোন কিছুকে অবলম্বন করতেই হয়। যেমন- মূর্ত্তি, প্রতীক, আগুনের শিখা, সূর্য্য, বা দেওয়ালে আঁকা কোন বিন্দু। এখান থেকে শুরু করে আমদের কে আস্তে আস্তে নিজেদের অম্ভ্যন্তরের চিন্ময় সত্যর আলোকে উদ্ভাসিত করতে হয়। তন্ত মন্ত কালো যাদু ও বিভিনো সাধনা বিসয় জানতে আজি যোগা যোগ করুন। মন্ত গুরু জ্বিন সাধন। রাজশাহী বাঘ মারা।
montrogurbd12@gmail.com.
Contact . imo-whatsapp .01757786808/
কোন মন্তব্য নেই